প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ (উত্তরা পূর্ব, উত্তরা পশ্চিম, উত্তরখান, দক্ষিণখান, খিলক্ষেত, তুরাগ ও বিমানবন্দর থানা) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রধান সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন তার নাম মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।
মনোনয়ন পাওয়ার পর ১০ ডিসেম্বর রাত ৯টার দিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্টে তার নির্বাচনী কৌশল ও আদর্শিক অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তার এই পোস্টটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার দৃঢ় অঙ্গীকার বহন করে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নির্বাচনী প্রচারণার মূল ভিত্তি হলো স্বচ্ছতা, সততা এবং নিয়ম মেনে চলা। তিনি নির্বাচনী ব্যয় সম্পর্কে যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে একটি নতুন বার্তা দিচ্ছে:
নীতি ও স্বচ্ছতার ভিত্তি: পাটওয়ারী বলেছেন, নির্বাচন আচরণবিধি তার কাছে শুধু আইন নয়, বরং রাজনৈতিক নৈতিকতার ভিত্তি। তিনি চান, নতুন বাংলাদেশে অতিরিক্ত টাকার জৌলুস নয়, স্বচ্ছতা ও গণবিশ্বাসের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা হোক।
ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা: তিনি ঢাকা-১৮ আসনের ভোটার সংখ্যার (ডিসেম্বর ২০২৩ অনুযায়ী ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৬০৮ জন) ভিত্তিতে নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যয়ের সীমা হিসাব করেছেন।
তিনি দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকার করেছেন যে, এই সীমার বাইরে তিনি এক টাকাও ব্যয় করবেন না।
অর্থ সংস্থান: এই পুরো অর্থ তিনি ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে অর্থাৎ জনগণের কাছ থেকেই সংগ্রহ করবেন। তার এই প্রচারণা হবে 'জনগণের প্রচারণা, তহবিল হবে জনগণের তহবিল, আর শক্তি হবে জনগণের শক্তি'।
হিসাব প্রকাশ: নির্বাচন শেষে ব্যয়ের প্রতিটি হিসাব জনগণের সামনে সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিগুলো তুলে ধরেন:
১. নীতি ও সততা: টাকা নয়, নীতি, স্বচ্ছতা ও সততার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা।
২. অবৈধ ব্যয় পরিহার: কোনো অবৈধ ব্যয়, অযথা প্রদর্শন বা প্রভাব খাটানো হবে না।
৩. মাঠে কাজ: কাজ হবে মাঠে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে, দরজায় দরজায় গিয়ে কথা বলে।
৪. দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ: যে বাংলাদেশ দুর্নীতি ও প্রভাবশালীদের দখল থেকে মুক্ত, সেই চেতনা ধারণ করা।
৫. জনসাধারণের অংশগ্রহণ: তার প্রচারণায় থাকবে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ, তাদের কণ্ঠ ও তাদের স্বপ্ন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণ হিসেবে নতুন বাংলাদেশের ধারণাকে সামনে এনেছেন:
রাজনীতির নামে অপচয় নয়, দায়িত্ববোধ প্রতিষ্ঠা করা।
বিলবোর্ডের রাজনীতি নয়, মানুষের সমস্যার সমাধান করা।
টাকার প্রভাব নয়, যোগ্যতা ও জনসমর্থনকে গুরুত্ব দেওয়া।
ভোট কেনা নয়, আস্থা অর্জন করা।
তিনি বিশ্বাস করেন, "সৎ রাজনীতি সম্ভব, নিয়ম মেনে রাজনীতি সম্ভব, আর জনগণের টাকায় নয়, জনগণের ভালোবাসায় জেতা সম্ভব।" তার মতে, ঢাকা-১৮ আসন হবে সেই পরিবর্তনের প্রথম আলোকবর্তিকা।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এই ঘোষণার দিনে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী ঘটনাও শিরোনাম হয়েছে:
| তারিখ ও সময় | ঘটনাপ্রবাহ |
| ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:১৪ পিএম | জনগণকে হ্যাঁ-না ভোট বোঝানো বড় চ্যালেঞ্জ: তথ্য সচিব |
| ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:২৬ পিএম | বিএনপি-জামায়াতের বিদ্রোহী প্রার্থীদের জন্য এনসিপির দরজা খোলা: নাসীরুদ্দীন |
| ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:১৭ পিএম | যে আসন থেকে লড়বেন হান্নান মাসউদ |
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ঢাকা-১৮ আসনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা এবং তার ক্রাউড ফান্ডিং ও ব্যয় স্বচ্ছতার অঙ্গীকার বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে টাকার প্রভাব ও অস্বচ্ছতার যে দীর্ঘদিনের সমালোচনা রয়েছে, এই পদক্ষেপ তার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। তিনি যে 'নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি' তৈরির কথা বলছেন, তা ১৯৫০ এর দশক থেকে চলে আসা ক্ষমতা ও অর্থের প্রতিপত্তির রাজনীতির ধারা থেকে বেরিয়ে আসার একটি সুস্পষ্ট প্রচেষ্টা। বিশেষ করে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তরুণদের দ্বারা গঠিত এনসিপির এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চর্চা এবং নির্বাচনের নৈতিক মানদণ্ডকে উন্নীত করতে সহায়ক হতে পারে।
১. ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের যুগান্তরে প্রকাশিত নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ফেসবুক পোস্টের হুবহু কপি।
২. জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর সদস্য সচিব আখতার হোসেনের ঘোষণা।
৩. ডিসেম্বর ২০২৩ অনুযায়ী ঢাকা-১৮ আসনের ভোটার সংখ্যা সংক্রান্ত তথ্য।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |